যদি বিশেষ আইনে বিচার পদ্ধতির বিধান না থাকে তাহলে CrPC অনুযায়ী বিচার হবে।
এই৷ বিষয়টি Security & Exchange Commission =VS= Md. Sayadur Rahman, (Criminal), 2019 (1) [6 LM (AD) 78] মামলায় আলোচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থায় সাধারণ আইন (general law) এবং বিশেষ আইন (special law) পাশাপাশি বিদ্যমান। ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC, 1898) মূল আইন হিসেবে কাজ করে। তবে, কিছু বিশেষ আইনে (যেমন—ডিপজিটরি অ্যাক্ট, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ইত্যাদি) আলাদা পদ্ধতি নির্ধারণ করা থাকে। প্রশ্ন উঠতে পারে—যদি কোনো বিশেষ আইনে কোনো পদ্ধতি উল্লেখ না থাকে, তাহলে কী হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর নিহিত আছে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫(২)-এ। এই ধারা বলে:
যদি কোনো বিশেষ আইনে ভিন্নতর কিছু না বলা থাকে, তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানগুলো বিশেষ আইনের অধীনে পরিচালিত মামলায়ও প্রযোজ্য হবে।
অর্থাৎ, বিশেষ আইন যদি কোনো প্রক্রিয়া (যেমন—অভিযোগ দাখিল, তদন্ত, কগনিজেন্স নেওয়া, ট্রায়াল ইত্যাদি) না বলে, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো প্রয়োগ করা হবে।
ডিপজিটরি অ্যাক্ট (The Depository Act, 1999) একটি বিশেষ আইন, যা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও সিকিউরিটিজ জগতে ডিজিটাল লেনদেন ও স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু এটি একটি বিশেষ আইন, তাই এতে কিছু অপরাধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু এই আইনে অপরাধের তদন্ত, মামলা দায়ের, কগনিজেন্স নেওয়া বা ট্রায়ালের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা নেই।
এমন ক্ষেত্রে, ফৌজদারি কার্যবিধি প্রয়োগ হবে। যেমন—
১. কগনিজেন্স (Cognizance) নেওয়ার ক্ষমতা:
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ অনুযায়ী, একজন ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ বা পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে কগনিজেন্স নিতে পারেন।
ডিপজিটরি অ্যাক্টে এই প্রক্রিয়া উল্লেখ না থাকায়, CrPC-এর ধারা ১৯০ প্রযোজ্য হয়।
২. ট্রায়ালের ধরন:
বিশেষ আইনে যদি ট্রায়ালের ফোরাম (যেমন—সেশনস কোর্ট বা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট) নির্দিষ্ট না থাকে, তাহলে CrPC-এর সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করা হয়।
এই মামলায়, অপরাধটি সেশনস কোর্টে ট্রায়ালযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে।